স্বগতোক্তিতে স্বাগতম! ব্লগটি মূলত ওপেন সোর্স, বইপত্র আর অন্যান্য বিষয় নিয়ে। কোনো মতামত থাকলে কমেন্ট কিংবা ই-মেইল করতে ভুলবেন না।

প্রিন্টিং স্টেটমেন্টস


কখনো কখনো অক্ষরের অবয়ব আমার কাছে চিত্রশিল্পও বটে। তাই আমি ‘কিছু না মানার’ দলে থাকা সত্ত্বেও প্রচলিত বানানকে এদিক-ওদিক করি না। একই কারণে অক্ষরকে চিত্রকলা করে তুলতে, যেসব শব্দের মৃদু পরিবর্তন অজাচারের মত স্ববিরোধী পাপের কথা মনে করায়, তাদের শরীর আমি পাল্টাই। মথিত করি তাদের, যেমন বৃক্ষ মন্থন করে ভূমি, মানুষ মন্থন করে স্তন। পাপ পাপ পাপ ! পাপই একমাত্র সত্য, কোথাও না পৌঁছুনোর। অশুভ কিছু মনে করিয়ে, কোথাও না পৌঁছুতে চেয়ে যে যাত্রা। ঘটাং ঘটাং ইটভাঙা মেশিন অস্থির আর্তনাদ আর কাঁচা মস্তিষ্কের উপর স্টিলের মত আছড়ে পড়ছে।   শব্দ প্রতিরোধ করতে জান্‌লার থাই গ্লাস ক্লোজ করলেই কালচে আভা পড়ে, সূর্য্যি মামার রাগ হয়, আলোর রং যায় পাল্টে। তাই আর ক্লোজ করি না। গাছগুলার পাতাঝরা রোগ দেখা যাচ্ছে, টিনের চাল- মিশমিশে পার্কের প্রাঙ্গন সব জায়গায় পাতা পড়ে আছে। মরা মরা। কবিতার নাম নেয়া নিষেধ, কবিতাবুড়োর জ্বর। নাম-করা কবিও নাকি আজকাল আঁকাআঁকিতে মন দিয়েছেন। কবিতার এ্যাপোকেলিপ্স নাকি শিগগিরি। কবিতা লিখলেও তাই খুন হবা। চিত্রশিল্পীর সিরিয়াল তারও পরে। তাই চিত্রশিল্প সেফ।   যদিও এসবের তোয়াক্কা না করেই এই সেদিনও এক তরুণী আত্মহত্যা করলেন। মৃত্যু তো আর সাবঅল্টার্ন উপাদান নয়। ধুস ! দিলাম না হয় থামিয়ে। জীবনের গগলস্ ! আরো কত কি যে দেখি, এক কবি তো আমার সাথে মজা নিতে বললেন- “আমি মুখ্যুসুখ্যু মানুষ, জানি না বেশি- ভার্সিটির গন্ডি পার হই নি”; কিন্তু সত্য কি আটকে রাখা যায়? যেমন আটকে রাখা যায় না পুঁজ ! বিভেদ করো না, নিজের সাথে অন্তত। এমনকি প্রিয় বন্ধু গলায় ছোরা ধরলেও না। হীরের বাট আছে অস্ত্রটার? ডুকাতে দাও এফোঁড়ওফোঁড় ! বন্ধুই সেই উপকারী মানুষ, যে তোমাকে এখানকার জীবন থেকে ফ্লী করতে সাহায্য করবে। অন্তত তোমাকে জন্মানোর সময় কি তোমার অনুমতি নেয়া হয়েছিল?   কি অন্যায্য ! বিশ্বাস করে ধোঁকা খাওয়ার চেয়ে- অবিশ্বাস করে বঞ্চিত হওয়া ভালো। রিক্‌শা পুলাররা বসন্তে বড় লাভ করেন। প্রেমিক, প্রেমিকা বহন। সাথে বকশিশ। হয়তো আড়ালেই আরেকটা প্লট তৈরি হচ্ছে, আরেকটা বিপদজনক প্রাণকে সরিয়ে দেয়া হবে। তিনজনের দ্বন্দ থেকে দুইজনের সন্ধিতে আসার জন্য। তোমার দোকান থেকে ছোরা ধারানো হয়। অথচ, সেই তুমিই হবে খুন।

         

এই লেখাটি Creative Commons এর CC BY-NC-ND 4.0 CCBY4 এর অধীন। আপনি লেখাটি অবিকল সংস্করণে শর্তসাপেক্ষে প্রকাশ করতে পারেন, তবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার বা প্রকাশ করতে পারেন না। বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য লেখকের অনুমতি নিন। প্রাথমিক শর্ত: আপনাকে অবশ্যই লেখাটি লেখকের নাম সহ প্রকাশ করতে হবে। লেখাটি যেনো কোনোভাবে পরিবর্তিত বা বিকৃত না হয় লক্ষ্য রাখতে হবে। বিস্তারিত দেখুন এখানে