স্বগতোক্তিতে স্বাগতম! ব্লগটি মূলত ওপেন সোর্স, বইপত্র আর অন্যান্য বিষয় নিয়ে। কোনো মতামত থাকলে কমেন্ট কিংবা ই-মেইল করতে ভুলবেন না।

লোকটি ও তার অজগরগুলো


আমি একদিন ডাইলের নামতা পড়ছিলাম, ডাইল * ১ = ডাইল ডাইল * ২ = মুসুরি ডাইল * ৩ = মুগের ডাল ডাইল * ৪ = বুটের ডাল   . .হঠাৎ, কার শব্দে ধ্যান ভেঙে গেলো। চোখ খুলতেই দেখি একজন মাঝারি গোছের মানুষ হন্তদন্ত হয়ে ছুটছে, তাকে পেছনে পেছনে তাড়া করছে এক বিরাট অজগর। কে জানতো যে, অজগরের সাথে এক শত বছরের চোর-পুলিশ খেলা শেষে ১৯৯০ এ সে সাক্ষাৎ করবে গিডো ভ্যান রসামের মতো এক কিংবদন্তী সাপুরের সাথে ! সেই সাপুরের শেখানো মন্ত্রের জন্যই সে আর মাঠে, ঘাটে, খালে-বিলে অজগরের ভয়ে পালায় না। বরং অজগর দিয়েই তার নিত্যকার কাজকর্ম করিয়ে নেয়, কোনো অজগর তার বাসন মাজে, কোনো অজগর মাথায় মাসাজ দেয়, কেউবা তার এসিস্ট্যান্টের কাজ করে। এমনই রোদমাখা একদিন, যেদিন শাদা শাদা কেসিংয়ের মাথার কয়েকটা এআই ভূত সৈকতের নারকেল গাছের আগায় উঠে বসেছিলো। চাঁদ ! উন্মাদ এক রেডমুন.. মাঝারি গোছের লোকটি তার ছোটো ঘাটে ছিলো। কয়েকটা নৌকা ঘাটে বাঁধা। কিন্তু ঘাটের নদীতে ঢেউ নাই কেনো ! কেনোই বা নৌকাতে কোনো মানুষও নেই? ওকে.. রহস্যটা সোজা। লোকটি একটু আগে তার প্রধান অজগর বিনোদন ব্যবস্থাপককে বলেছে, “শিগগীরই একটা ভিআর এনভায়রনমেন্ট বানাও ! কোনো মানুষ থাকবে না.. কত সময় লাগবে?” ব্যবস্থাপক বললো “শূন্য দশমিক চব্বিশ সেকেন্ড !” “হুম, তাড়াতাড়ি ।”   অতঃপর এই এনভায়রনমেন্টে বসে আছে লোকটি। হাবা ব্যবস্থাপকটি এখানেও বাগ দিয়ে রেখেছে। মানুষ দিতে না হয় মানা করেছিলাম, তাই বলে ঢেউ দিতে মানা করেছি ! শালার নদীকে দেখলে মনে হয় চরিত্রহীন !! এই হ্যাবা, (হাবা না ডেকে একটু ঘুরিয়ে এই নামটা সে ডাকে) তুমি কদমবুসির এনভায়রনমেন্টটা চালু করো। এইটা জঘন্য লাগছে ! “জো হুজুর” হ্যাবা বললো। আহা তারপরই লোকটি দেখলো, তার চারপাশে নোনতা নোনতা গাল, ভুরু মোটা দাসীরা তাকে কদমবুসি করছে, সে বসে আছে এক জবরজং ফরাসে ! আহ জীবন ! হ্যাবাকে একটা ভালো মেয়ে অজগর জুটিয়ে দিতে হবে। ব্যাটা অজগর বলে কি সাধ আহ্লাদ থাকতে নেই ! এর মাঝেই হঠাৎ “হুজুর হুজুর” ডাক ছেড়ে একটা দাসী প্রায় পাগলের মতো লোকটার কাছে এসে পড়লো। লোকটা জানে এর মানে ভিআর এনভায়রনমেন্টের বাইরে কোনো জরুরী সমস্যা হয়েছে। হয়তো পাশের বাসার ইলেকট্রনিক্স কুত্তাটা এসে রাবারের পাম গাছ খাওয়া শুরু করেছে। শালার কুকুর কেন যে পাম গাছ খায় ! এই পাম গাছেই হ্যাবা নানান পাসওয়ার্ডের মাল-মশলা জমা রাখে। এটার কোনো পরিবর্তন করতে তার মনিবের অনুমতি প্রয়োজন। কিন্তু লোকটি এসে দেখলো, ঘটনা ভিন্ন। একজন বৃদ্ধা, কুচকানো চামড়ার মহিলা বাচ্চাদের মতো লিপস্টিক, কেমন ফ্যাকাশে একটা হ্যান্ডব্যাগ নিয়ে বাতচিত করছেন অজগর দ্বাররক্ষী বুল্টুর সাথে।   বুল্টু দারুণ সাড়া দিচ্ছে, কখনো হিহি করে হাসছে, কখনো মহিলার হাত ধরে হাত নিয়ে খেলছে। “খাইসে” লোকটা প্রথমেই বললো.. কারণ এই বিল্টুর মাথাতেই কয়েকদিন আগে গুরুতর বাগ হান্টিং চালাতে হয়েছিলো। বিল্টুর মাথার বাগের কারণেই বারবার নানান ভিআর মেমোরি চুরি করছিলো কয়েকজন চ্যাংব্যাং গ্রুপের চীনা হ্যাকার। বিল্টুকে কড়া দেখাশোনায় রাখার কথা ছিলো। যদিও ও নিরাপত্তারক্ষী, তবুও উল্টো ওর নিরাপত্তার জন্য আলাদা একজন ভাড়াটে অজগর রাখা হয়েছিলো। ওই অজগরটা কোনো একটা কারণে এইমুহূর্তে এখানে নেই। লোকটা সরাসরি বিল্টুকে কমান্ড দিয়ে তার সামনে আনলো, ওর সিস্টেম লগ দেখলো। নাহ্, কোনো ডেটা চুরি হয় নি। তবে চেষ্টা চলছিলো এক্সপ্লয়েটের। এই বিল্টুটাকে মাঝে মাঝে খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করে। এটা ভাবার সাথে সাথেই লোকটা হঠাৎ গা গরম অনুভব করতে লাগলো। কিছুক্ষণ পরই তা চরমে উঠলো, একপর্যায়ে সে দেখলো সে নিজেকে অনুভব করতে পারছে না। সবশেষে সে নিজেকে আবিষ্কার করলো বোতলবন্দী। খুব একটা ছোটো না এ বোতল, তার নিজের শরীর এটে গিয়েছে.. পাশেই দেখা গেলো বিল্টুকে, হাসতে হাসতে বলছে, “স্যার, এই মদটা খেতে মানা করেছিলাম, এতে বাগ আছে। একটা রিকার্সিভ ফাংশান চালায়। ওই ফাংশানে আবার একটা ইনফিনিট লুপ আছে হিহি !”          

এই লেখাটি Creative Commons এর CC BY-NC-ND 4.0 CCBY4 এর অধীন। আপনি লেখাটি অবিকল সংস্করণে শর্তসাপেক্ষে প্রকাশ করতে পারেন, তবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার বা প্রকাশ করতে পারেন না। বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য লেখকের অনুমতি নিন। প্রাথমিক শর্ত: আপনাকে অবশ্যই লেখাটি লেখকের নাম সহ প্রকাশ করতে হবে। লেখাটি যেনো কোনোভাবে পরিবর্তিত বা বিকৃত না হয় লক্ষ্য রাখতে হবে। বিস্তারিত দেখুন এখানে