স্বগতোক্তিতে স্বাগতম! ব্লগটি মূলত ওপেন সোর্স, বইপত্র আর অন্যান্য বিষয় নিয়ে। কোনো মতামত থাকলে কমেন্ট কিংবা ই-মেইল করতে ভুলবেন না।

GPL বনাম Permissive লাইসেন্স


একটা সময় যখনই কোনো প্রজেক্টের উইকি পেজ বা, ডেসক্রিপশন পড়তাম তখনই দেখতাম তা GPL এর আওতায় আছে কিনা। আমার কাছে এটাই ছিলো মুক্তির আর্চওয়ে। লাইসেন্সের জায়গায় Proprietary লেখা থাকলেই প্ল্যান করে রাখতাম, সেটা থেকে কিভাবে দূরে থাকবো। এখন কোনো প্রজেক্ট দেখলেই প্রথমে চেক করি সেটা BSD, Apache, Mit, Mozilla, EPL এই অতিপরিচিত ওপেন সোর্স লাইসেন্সগুলোর আওতায় আছে কিনা। যদি থাকে, তাহলে এগুলো নিয়ে কিছু অর্থনৈতিক লাভজনক কাজ (টেকসই অর্থে) করা যাবে, যারা পারমিসিভ লাইসেন্স হিসেবে পরিচিত। যদি Proprietary বা, GPL এর আওতায় থাকে, তবেই আর আশা নেই। অর্থ্যাৎ, পারমিসিভ বলতে বুঝানো হচ্ছে আপনি চাইলে এইসব লাইসেন্সের আওতাধীন যেকোনো প্রজেক্টকে অন্য লাইসেন্সের আওতায় ব্যবহার করতে পারবেন (অর্থ্যাৎ প্রোপ্রাইটরি লাইসেন্সও এতে ব্যবহার করা সম্ভব)। তবে GPL এর আওতায় থাকা যেকোনো প্রজেক্ট মডিফাই করা হলেও পরবর্তী ভার্শনগুলোও GPL এ রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একে বলা হয় “কপিলেফট” লাইসেন্স; যা “পারমিসিভ” লাইসেন্সের বিপরীত। কারণ, জিপিএল এর প্রণেতা ভাবেন-

“A related issue concerns combining a free program with nonfree code. Such a combination would inevitably be nonfree; whichever freedoms are lacking for the nonfree part would be lacking for the whole as well. To permit such combinations would open a hole big enough to sink a ship. Therefore, a crucial requirement for copyleft is to plug this hole: anything added to or combined with a copylefted program must be such that the larger combined version is also free and copylefted.”

(Free Software, Free Society: Richard Stallman)

  অন্যদিকে পারমিসিভ লাইসেন্স হলে, সেই ওপেন সোর্স প্রজেক্টগুলোকে আপনি প্রফিটের জন্যে অস্থায়ীভাবে প্রোপ্রাইটারিতে পরিণত করতে পারবেন। এটা ট্রেড সিক্রেট শুধুই, এতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, বাট সেটাও কি আমাদের আড়ালে থাকবে? এসব শনাক্ত করার কিছু প্রযুক্তি আমাদের হাতে ইতিমধ্যেই আছে। ট্রেড সিক্রেট বলতে আমি Delayed Open Sourcing এর কথাই বলতে চেয়েছি । নতুন প্রোডাক্টগুলোর সোর্স ক্লোজড রেখে প্রফিট উঠে আসতে পারে, অতঃপর সেটাকে ওপেন সোর্সে পরিণত করা (কয়েকটা সফটওয়্যার প্রোডাক্ট এই নিয়ম ফলো করছে বলেও দেখেছি)। প্রোপ্রাইটরি ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে সফটওয়্যার গুলোকে বাজারজাত করা সম্ভব না। কারণ, ট্রেড সিক্রেট না থাকলে সেখানে ট্রেডের অস্তিত্ব থাকছে না। তবে আমি যদি দেখি শেষমেশ জিপিএল ছাড়া পথ নেই, তবে সোর্স স্টাডি করার প্রস্তুতি নেই, কারণ জানি সব স্ক্র্যাচ থেকে লিখতে হবে। প্রথমত, লিনাক্স কার্নেল প্রজেক্টকে যদি আপনি আদর্শ ওপেন সোর্স প্রজেক্ট ধরেন, সেখানেও লক্ষ্য করতে হয় যে, লিনাক্সের প্রধান কন্ট্রিবিউটররা আসলে গুগল, মাইক্রোসফট ইত্যাদি ইত্যাদি কয়েকটা প্রতিষ্ঠান, যারা পুরোপুরি ওপেন সোর্সের আওতায় তাদের সব প্রোডাক্ট অবমুক্ত করছে না। আপনি যে লিনাক্স কার্নেল ব্যবহার করছেন, তা যদি এদের দানধ্যানে সমৃদ্ধ হয়, তবে আপনি নিজে কতটা GPL বান্ধব তেমন প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে। এমনকি শেষমেশ জিপিএল নিজে কতটা প্রকৃত Freedom কে গুরুত্ব দেয় সেটাও তখন প্রশ্ন। যেকোনো সিরিয়াস GPL প্রজেক্টকে হয় প্রবলভাবে স্বেচ্ছাসেবী অবদানে নির্ভর করতে হয়, দান-খয়রাত নির্ভর হতে হয়, নয়তো প্রোগ্রামিং/ডেভোলাপিংয়ের কাজ রেখে নির্বাহী কাজ করে, কর্মী পরিচালনা করে, ট্রেনিং ইত্যাদি সাপোর্ট সার্ভিসে প্রোগ্রামারের যোগ দিতে হয়, বা অর্থসংস্থানের কথা ভাবতে হয়।   যা আমার মতে ব্যাড বিজনেস মডেলের কারণেই হয়, যা GPL উদ্ভূত। অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে আমার রাজনৈতিক বিশ্বাস প্রবলভাবে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী ও Anti-Authoritarian হওয়ায় কৃত্রিম সব ছড়ি ঘোরানোকেই পরিহার করতে চাই (যতটুকু সম্ভব-এই অর্থে)। পরবর্তী ব্যাপারটি হলো, কোনো কাজ, অবদানকেই যেন শেষমেশ “শুধুই প্রোডাক্টে” পরিণত না করতে হয় তা ঠিক করা প্রয়োজন। এটাই মূলত অ-ব্যবহারকারীবান্ধব টেক জায়ান্টদের জন্মের গোড়া। প্রোডাক্টের ব্যবহারবিধি বা, প্রস্তুতপ্রণালী (এক্ষেত্রে সফটওয়্যার সোর্স) ইউজারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার পথে একমাত্র বাঁধা নয়। রাষ্ট্রীয় সংস্থার ভয়ের জন্য সৃজনকর্মের পথে আইন মানার তুলনায় মানুষদের ব্যক্তিগত বোঝাপড়াই বেশি দরকারী। এই বোঝাপড়া এমনকি নৈতিকতা থেকেও বেশি প্রাকৃতিক ও কার্যকরী। {বিঃদ্রঃ GPL কে ইতোমধ্যে ব্যবসায়িক যুদ্ধের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহার করাও সম্ভব হয়েছে। যখন জাভার প্রধান ইমপ্লিমেন্টেশন ছিলো প্রোপ্রাইটারি তখন ওপেন সোর্স ডেভরা চাইলেন জাভার একটা ওপেন সোর্স অল্টারনেটিভ তৈরি করতে। ফলে আমরা পেলাম Apache Harmony, ECJ, GCJ ইত্যাদি প্রজেক্ট। যার মাঝে GCJ বাদে সবাই পারমিসিভ। তখন জাভার মালিকানায় থাকা Sun Microsystems/Oracle টের পাচ্ছিলো তাদের একচেটিয়া জাভা কম্পাইলার, ভার্চুয়াল মেশিনের ব্যবসার দিন শেষ। সবাই ফ্রি গুলোই ব্যবহার করবে। তাই সান/অরাকল নিজেরাই অফিসিয়াল জাভার কম্পাইলার আর ভার্চুয়াল মেশিনকে ওপেন সোর্স করে দিলো (Openjdk & Openjre)। তবে একটা প্রোপ্রাইটরি জাভাও রাখা হলো Oracle Jdk নামে, যা লং টার্ম সাপোর্ট পায় অফিসিয়ালি। লক্ষ্য করুন… এই ওপেন সোর্স জাভা হলো ঝুঁকির ওপেন সোর্স, যা GPL এর অধীন। তারা পারমিসিভ লাইসেন্সের অধীনে কেনো এটা ছাড়লো না? কারণ তারা চায় নি, যেন কেউ তাঁদের প্রজেক্টকে আলাদাভাবে ডেভোলাপ করে বাড়তি প্রফিট করতে পারে, যেন তারা বাধ্য হয় একে GPL এর মৌলিক নীতি অনুসারে ওপেন সোর্স রাখতে। জিপিএল এখানে পণ্যসর্বস্ব বাণিজ্যের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হলো। গুগল আর ওরাকলের জাভা প্যাটেন্ট নিয়ে কোলাহল আমরা একযুগ ধরেই যে কারণে দেখে আসছি। ওপেন সোর্স ডেভরাও এতে প্রভাবিত হলেন। হারিয়ে গেলো Apache Harmony.)}          

এই লেখাটি Creative Commons এর CC BY 4.0 CCBY4 এর অধীন। আপনি লেখাটি শর্তসাপেক্ষে পরিবর্তন, পরিবর্ধন করে প্রকাশ করতে পারেন ও চাইলে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করতে পারেন। প্রাথমিক শর্ত: আপনাকে অবশ্যই লেখাটি লেখকের নাম সহ প্রকাশ করতে হবে। লেখাটিতে পরিবর্তন আনলে পরিবর্তন আনার কথাটিও খোলাখুলি বলতে হবে। বিস্তারিত দেখুন এখানে